মোটরসাইকেলে চট্টগ্রাম থেকে তেতুলিয়া-Part 3 (last part)

মাথাগোঁজার ঠাই, ২৪শে ডিসেম্বর,২০১৪:

এতই খারাপ অবস্থায় ছিলাম রাতে যে মনে হয় ভোরের অপেক্ষায় ছিলাম,তাই কাক ওঠার আগেই উঠে পড়লাম।যথারীতি দুই বন্ধু একসাথে থাকলেও একসাথে ঘুম থেকে কোনদিন মনে হয় উঠি নাই এর আগে,থুক্কু না উঠছি,তবে সবসময়ই তা কোন না কোন ট্যুরে…হাহাহা…ফলে ঘটনা একই।বাথরুম নিয়া ঠেলাঠেলি,গালাগালি…ওই জলদি বাহির হ,না হইলে কিন্তু তোর তোয়ালের উপর কাজ সারুম…হাহাহাহা…

যাই হোক, কোন অঘটন ছাড়াই রেডি হয়ে বের হলাম।প্রচন্ড ঠান্ডা,কুয়াশায় ঢাকা গোবিন্দগঞ্জ।হোটেলে ঢুকে পড়লাম,নাস্তা করলাম ভরপেট,চা-বিড়ি খেলাম।গিয়া কোল্ড ইঞ্জিন লইয়া মুছিবতে পড়লাম।কিছুতেই বাইক স্টার্ট দিতে পারতাছি না।দোস্ত হালা চান্স পাইয়া,সমানে পার্ট লইলো, “তোরে দিয়া কিছুই হইব না,টাইমলি একটা কাজ করতে পারছ না।শুরু থিকা দেরী করতাছস,এখনো দেরী”।হাহাহা…যাক গালি-গালাজ সহ্য করে বাইক স্টার্ট হল,গন্তব্য ফুলবাড়ি, দেন দিনাজপুর।

রাস্তায় খুবই কুয়াশা তবে যথারীতি রাস্তা ভাল।কিন্তু বেশি জোরে চালাইলেই দোস্তের হাটু কাপে…হাহাহাহা…কি আর করা,এবার আমার গালি দেয়ার চান্স।হাহাহা…তবে এর মাঝেই হালা সীদ্ধান্ত পরিবর্তণ করল যে ফুলবাড়ি না গিয়া আগে হিলি চলে যাই।যে রাস্তা ধরে যাচ্ছি তার থেকে যাবার কোন কানেক্টিং রোড থাকার কথা।তবে রাস্তাটা খুবই সুন্দর,দু’পাশে শালবন টাইপ,মনে হয় জঙ্গলের মাঝ দিয়ে রাস্তা করা।আর্মির পাহারারত গাড়ি দেখতে পাবেন,খব ধীর গতিতে চলছে।হাহাহাহা…

সামনের এক চায়ের দোকানে চা খেতে দাড়ালাম,জিজ্ঞেস করে নিলাম কানেক্টিং রোডের কথা তবে তা ২০ কিঃমিঃ পেছনে।যাই হোক,চা শেষ করে উলটা ঘুরে দিলাম ছুট।

আমরা কানেক্টিং রোড ধরে ছুটছি,রাস্তা তেমন খারাপ না তবে হালকা পটহোল আছে,তবে কুয়াশা তখন ঢেকে রেখেছে পুরো অঞ্চল।রোদের পেছনে ধাওয়া করতে করতে ছুটলাম হিলির দিকে,যখন হিলি পৌছালাম তখন বাজে সকাল ৯টা…সোজা চায়ের দোকানের সামনে দাড়ালাম আগে।চা খেতে খেতে পরিচিত হলাম ওখানে যারা বসে আছেন।তারা আমাদের কাহিনী শুনেই গাইড হয়ে গেলেন,কি আছে না আছে,কোথায় যেতে হবে সব শেয়ার করে ফেললেন।আমরাও ওনাদের সাথে কথা শেষ করে বর্ডারের দিকে এগিয়ে গেলাম।

img_20141224_091838

ল্যান্ড পোর্টের সামনেই বাইকটা রাখলাম।আমাদের দেখে মানুষের অনুসন্ধিৎসা জাগাটাই স্বাভাবিক।আজিব চিড়িয়া…যাই হোক, দু’জন ব্যক্তির সাথে পরিচয় হল।নামটা কেন এখন মনে নেই বুঝতে পারতেছি না।তবে চেহারা তো সবই মনে আছে।

একজন মাঝবয়সী,চান্দি ছিলা।পান খান,প্রচুর কথা বলেন। আরেকজন মাঝবয়সের শেষের দিকে,কাচাপাকা চুল,ভালই গড়ন,লম্বা ৫’১০” বা ৯” হবে,বেশ হাস্যোজ্জ্বল মানুষ।এখানকার স্থানীয়,বিয়ে করেছেন এখানেই,বড়ভাই পুলিশে আছেন,উনি ব্যবসা করেন।এককালে ফুটবল খেলতেন যখন বাংলাদেশে ফুটবল লীগ প্রচলিত ছিল খুব।মোটের উপর ওনারা কেউই আংকেল গোছের না ফলে মেশা খুবই সহজ হল।

আমরা রেললাইন ক্রস করে ইন্ডিয়ার বর্ডারের কাছে গেলাম,ছবি তুললাম।যদিও ইন্ডিয়ান সেনারা মানা করলো ওনাদের ছবি না নিতে…হাহাহা…কি জানে,কেন?ওখানে আমাদের বর্ডার গার্ডের পদস্থ কোন ব্যক্তির সাথে কথা হল।আমাদের উদ্দেশ্য জেনে হাসলেন,বললেন পত্রিকার কেউ না হলেই ভালো।হাহাহাহা…যাই হোক,ছবি তুলে শেষ করলাম।ওনারা আমাদের বাইকটা ডাকবাংলার সামনে রাখতে বললেন।এবার নিশ্চিন্তে ঘুরতে বললেন আর ওনাদের ফোন নাম্বার দিলেন যদি কোন সমস্যা হয় যেন জানাই।আর আমাদের চা অফার করলেন,কিন্তু ভুলে দোস্ত বিল দিয়ে দেয়ার খুবই রাগ করলেন।মোটামুটি বিদায় না নিয়েই চলে গেলেন।হাহাহাহা…

আমরা হিলি মার্কেটে ঘুরে বেড়াচ্ছি,বাইক পার্টস দেখছি।টায়ার খুজছি জেপারের…হাহাহা…ড্রাই সেল ব্যাটারী এইসব হাবিজাবি…হঠাৎ দোস্ত বললা চল ইন্ডিয়ান কিছু জিনিস কিনি,লাইক যেগুলা মা’দের কাজে দিবে।যেই বলা সেই কাজ,এক দোকানে গেলাম পরবর্তীতে যিনি আরেক ফারুক হিসাবে আবিষ্কৃত হলেন।ফারুক ভাইয়ের সাথে সমানে আড্ডা দিলাম আর পাশের দোকান থেকে বাচ্চাদের জন্য বিস্কিট,ক্যান্ডি নিলাম…বয়স্কদের জন্য দুনিয়ার ব্যাথার ক্রিম,ঝান্ডু বাম,মাথা ব্যাথার মলম,গা ব্যাথার মলম নিলাম।আর ক্যাশমেমো নিয়ে নিলাম,না হলে চেক পোস্টে আটকাবে।হাহাহা…আর ফারুক ভাইয়ের কাছ থেকে ইন্ডিয়া থেকে আনিয়ে নিলাম আমচুর,হিং,সাদা বা কালো এলাচি ইত্যাদি।তারপর ফারুক ভাই আতিথিয়তা করলেন হিলির পানীয় দিয়ে,আমরা দুই দোস্ত অবাক হয়ে গেলাম…হাহাহাহা…সমানে কথা বলতে থাকেন ফারুক ভাই,এবার তার কারণ খুঁজে পেলাম।হাহাহাহা…যাই হোক,আমার কপালে কিছুই জুটল না,আমাকে বাইক চালাইতে হবে।আসলে পেঁচির ভয়ে কিছু করতে পারছিলাম না,বারবার মনে হচ্ছিল যদি দেখে ফেলে।কোন চিপাতে বসে আছে কে জানে…হাহাহাহা…তবে কিছুক্ষণ চেষ্টা করলাম যদি এড়িয়ে কিছু করা যায়,পরে রণেক্ষান্ত দিলাম।আর বাইকে উঠে বসে থাকলাম,গাল ফুলিয়ে।ফারুখ ভাই আর দোস্ত মজা নিল।হাহাহাহা…

দুপুর ১২টা,হিলি থেকে রওনা দিলাম,যাব দিনাজপুর।ছুটে চলছে জাম্পিং বাইক সোজা রাস্তা ধরে।পথে চেক পোস্টে দাড়ালাম।জিনিসপত্র দেখে বলল এত কেন?পরে আমাদের কথাবার্তা সব শুনে কিছু বললো না আর,কেবল বলে দিলেন,প্রোপার ক্যাশমেমো যেন এরপর নিয়ে নেই।এভাবে খাতার কাগজে লিখে দিলেতো হবে না।হাহাহাহাহা…

দুপুরে এক হোটেলে ভাত খেলাম আমি একা,সাথে স্থানীয় মিষ্টান্নতো আছেই…হাহাহা…খেলাম মাছের ডিম,ছোট মাছের দোপেয়াজি টাইপ কিছু একটা,মাছের ও সবুজ কিছু একটার ভর্তা আর কালোভুনা যদিও গরুর মাংসের তরকারী ছাড়া কিছুই না ওটা…হাহাহাহা…আমারতো ক্ষুধা আছে,হাহাহা…খেয়ে-দেয়ে আবার ছুটলাম তবে তার আগে বাইকের চাকায় হাওয়া দিলাম।এরপরের রাস্তাটুকু খুবই সুন্দর ছিমছাম,একটু সরু তবে বাইকের জন্য নো প্রব।এক মাইক্রোবাসের সাথে রেইস দিলাম,কারণ তাতে কিছু সুন্দরী বসে ছিল…হাহাহাহা…১১৪তেও যখন ধরতে পারা যাচ্ছে না তখন একটু দুশ্চিন্তা হলো,মাইক্রো কেমনে এই গতিতে চালাচ্ছে হালা,দেখতেই হইব মেয়েগুলারে।হাহাহা…দোস্তরে কইলাম পা দিয়া বাইক চাইপা ধইরা বয়।হাহাহা…খুলে দিলাম পুরা থ্রটল।

১২০…২১…২২…২৩…২৪…২৫…২৬…২৭…২৮…এইবার গিয়া মাইক্রোর পাশে পৌছাইলাম…

ওমা…এইডা কিতা!কিসের মেয়ে,কিসের কি…দুইজন খালাম্মার সাথে ৫/৬টা পিচ্চী মেয়ে…মেজাজই খারাপ হইয়া গেল…ঝাটা মারি ড্রাইভারের কপালে…হাহাহাহা…

পথে আর কোন প্রকার প্রতিদ্বন্দিতা ছাড়াই আমরা চলতে থাকলাম।হঠাৎ করেই ভয়ংকর একটা সুন্দর কিছুর টানে যেখানে ঘটাং করে ব্রেক করে দাঁড়িয়ে গেলাম সেটা আর কিছুই না একটা আখের মত লম্বা কোন কিছুর বাগান,প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে হবে,অবস্থা বেগতিক।হাহাহা…

তবে একটু পরেই আবার দাড়াতেই হলো,ঘড়িতে তখন ৩টা ৪৫মিনিট।বলা যায় একই রকম ভাবে বাধ্য হলাম,আর এই জায়গার নাম ‘মোহনপুর’…অসম্ভব সুন্দর করে দিয়েছে ব্রিজটাকে যেটা তা হচ্ছে একটা ড্যাম টাইপ কিছু।যা খুব সম্ভবত ব্রিজের নিরাপত্তার অংশ হিসাবা করা হয়েছে।আর এখানে তার ছবিটাই সংযোজন করার ইচ্ছা আছে,জানি না শেষ পর্যন্ত কি হয়।হাহাহা…ওখানে কিছুক্ষণ দাড়ালাম,তখনো জানতাম না যে এখানেই আবার ঘুরে আসতে হবে আমাদের।তবে তা অন্যসময়ের কথা,অন্যদিনের কথা।

img_20141224_154448

আবার বাইক ছুটিয়ে চললাম দিনাজপুরের দিকে।অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌছে গেলাম দিনাজপুর।প্রথমে অবাক হলাম দিনাজপুর দেখে,এই বুঝি দিনাজপুর,বাংলাদেশের ডান্ডি…তবে ভুল ভাঙ্গলো একটু পরে।দিনাজপুর মেডিকেল যে শহরের দ্বারপ্রান্তে সেটা কি আর আমরা জানি নাকি।পরে শহরে ঢুকে বেশ অবাক হলাম,উত্তরবঙ্গে বগুড়ার পর এখানেই মনে হল শহর-শহর একটা আমেজ আছে।তবে তখন তা দেখার সময় নাই,মাথা গোঁজার টাহি খুজতে হবে।কিন্তু কোথায় কি?যাকেই জিজ্ঞেস করি বলে এদিক দিয়ে ওদিকে যান,ওদিক থেকে ডানে যাবেন পেয়ে যাবেন,গিয়ে দেখি কই রে ভাই,এটা কি?পরে মুরুব্বি বাদ দিয়া ইয়াং কাউকে,কাঁধে ব্যাগ দাড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলাম।এক নিমিষেই পেয়ে গেলাম আমাদের মাথা গোঁজার ঠাই…আবারো মুগ্ধ হলাম,আমি সারাজীবন ছোট থাকার এক অদ্ভুত তাড়না অনুভব করলাম।হাহাহাহা…তাড়াতাড়ি রুমে সব ফেলে,ফ্রেশ হয়ে,বাইক নিয়ে বের হলাম।পথের ধারেই একতা স্ট্রিট ফুডের দোকানে দাড়ালাম।অদ্ভূত কিছু আইটেম এখানে তৈরী হতে দেখলাম…

-খাসির মাংসের টিকিয়া টাইপ কিছু।

-ডিম চপ।

-ছোট মাছের বড়া।

-ফুলকপির বড়া।

আর সব ইউজুয়াল পিয়াজু,ছোলা…তবে এর কিছুই কি স্ট্রিট ফুড হিসাবে কোথাও তৈরী হতে দেখেছি।কোথাও না,তবে টি,এস,সি বা ভার্সিটি এরিয়া ছাড়া…

সমানে দুই দোস্ত খাইলাম।মন ভরল তবে পেট তো ভরে না,আমি কইলাম তুই খা আমি খুইজা দেখি হোটেল আছে কোনদিকে।আসল কথা দিনাজপুরের রাস্তা একটু টেস্ট করে দেখা।কোন কিছুর অপেক্ষা না করে বাইকে উঠেই…ভো…

মনে হয় দিনাজপুরের মানুষ এভাবে সাধারণত বাইক চালায় না বা যারা চালায় তাদের ভাল চোখে দেখে না,জানি না।দেখলাম জ্যাম রাস্তার মাঝেও খালি জায়গার অভাব নাই…হাহাহাহা…তবে হোটেল খুঁজে পেলাম না একটাও,এমনকি একটা ফার্মেসিও না।কারণ মাথা ব্যাথা করতেছিল খুব।হাহাহাহা…অবশ্য পরে গিয়ে খুঁজে পেলাম কারণ সাথে দোস্ত আছিল এবং যথারীতি আমাকে গালি দিচ্ছে, “তোরে দিয়া কিছুই হয় না।এইডা কি”?…হাহাহাহা…কে জানে কি হইছে…হাহাহাহা…তবে যেই জীবন হোটেল খুঁজে পাইলাম,এটা কিভাবে পাইলাম চিন্তা করলেও অবাক লাগতেছে।

জীবন হোটেলঃ

সাইনবোর্ড দেখে আশেপাশে খুঁজে আপনি কোন হোটেল পাবেন না।তবে প্রদর্শিত পথে যদি এগিয়ে যেতে পারেন সিঁড়ির নিচ দিয়ে তারপর একটা গেইটের ভেতর দিয়ে এবং গিয়ে হঠাৎই দেখে মনে করবেন কার ঘরের অন্দরমহলে ঢুকে পড়লাম কিন্তু সেটাই হোটেলের কিচেন আর তারপরে গিয়ে হোটেল যেখানে আমরা খেলাম বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ ক্ষীর।অ-সা-ম… আর খেলাম ভয়ংকর ঝাল যুক্ত ছোলা ভাজা,সাথে ভয়ংকর ঝালযুক্ত পাকোরা আর পিয়াজু।আর আমাদের অবস্থা দেখেই বেয়ারা সাহেব আমাদের নিজে থেকেই ক্ষীর খাবার পরামর্শ দিলেন।তবে সবচেয়ে ইন্সাল্টিং ব্যাপার হল,আমাদের পাশে বসেই ৯/১০বছরের এক শিশু মায়ের কোলে বসে সমানে এসব খাচ্ছে…যদিও ছোট মানুষ হিসাবে জল জল বলে চেঁচানোটাও স্বাভাবিক…যথারীতি আবারও ছোট থাকলে কি সুবিধা ভেবে মোহিত হলাম।আমরা চোখের নাকের পানিই কেবল মুছতে পারি,জল-জল বলে চেচাইতেও পারি না যদি বেয়ারা সাহেব সদয় হয়ে ক্ষিরের কথা না বলে তাহলে ওভাবেই মুখ বুঝে সইতে হত…তবে ত্রাণ পেয়ে দুটা করে ক্ষীর খেয়ে ফেললাম।কারণ দেখতে অনেক মনে হলেও চামচ লাগানো মাত্রই বুঝতে পারবেন পুরাটাই মাটির বাটি হাফ কোয়াটার অফ এন ইঞ্চ বা হাফ মিঃমিঃ ক্ষীরের পুরুত্ব…বাটির ডায়ামিটার বেশি হলে ২ ইঞ্চি।হাহাহাহা…যাই হোক,ঝাল,ক্ষীর,ভাজা পোড়া খেয়ে বের হলাম,ভাবলাম যাই একটু রুমে,গা কেমন যেন করছে।বাইক হোটেলের গ্যারেজে রাখলাম।

মান সম্মত হোটেল,নিট,ক্লিন…নাম ***…তবে হোটেল দোতলায়,নিচে ট্রান্সকমের শোরুম ছিল মনে হয়।রুমে গিয়ে বিছানায় গা এলাতেই যেন দুনিয়ার ঘুম চাপল,দেখা যাক কখন ঘুম ভাংগে.. zzzZZZZ …এখানে তো আর পেঁচিকে দেখতে পাবার কোনই আশা নাই…দেখা যাক স্বপ্নে আসে কিনা…হাহাহাহা…

 

চাচা আপন প্রাণ বাঁচা, ২৫শে ডিসেম্বর,২০১৪:

ঘুম থেকে যখন উঠলাম দুই বন্ধু তখন প্রায় বিকেল। এত আরামে, এত দ্রুত একটা দিন কাটাবো তা আগে যদি একবার ভাবতাম…হাহাহাহা…কিছুই করলাম না আর, উঠলাম, ফ্রেশ হলাম, খেতে বের হলাম। খাওয়া শেষ করে, রুমে ফিরলাম। বাইক নিয়ে হাওয়া খেতে মোহনপুর চলে গেলাম, কিছুক্ষণ ঠান্ডা খেয়েই ফুট দিলাম, রুমে এসে আমি দিলাম ঘুম। রাতে কি হলো আমি কিছুই জানি না, ডিনারো করিনি। একেবারে পরদিন ভোরে উঠলাম। আমার দোস্ত একা একাই ডিনার করে নিয়েছিল এবং সকালে যথারীতি বাথরুম নিয়া ঠেলাঠেলি…হাহাহাহা…

 

দে দৌড়, ২৬শে ডিসেম্বর,২০১৪:

খুব সকাল সকাল দিন শুরু হয়ে গেল আজ। নাস্তা করতে গিয়া ভেজালে পড়লাম কারণ সবে পরটা বানাচ্ছে কিন্তু ইতিমধ্যে বিশাল এক ফ্যামিলি কক্সবাজার বেড়াতে যাবেন, তারাও নাস্তা করতে বসে আছেন। সো, সাপ্লাই ডিমান্ড নিয়ে একটু ঝামেলা হলো। আমাদের দেরী হলেও ততটা হলো না। ফাইনালী, নাস্তা করে বাইক স্টার্ট দিয়ে রওনা করলাম, গন্তব্য তেতুলিয়া।

সাড়ে দশটার দিকে আমরা পঞ্চগড় দাড়ালাম চা খেতে, সেখানে আরেকদল ট্রেভেলারের সাথে কথা হলো। ওনারা ঢাকা থেকে মাইক্রো নিয়ে এসেছেন।

দুপুর সাড়ে এগারোটা, আমরা তেতুলিয়ার চা বাগানের ছবি তুললাম।img_20141226_114518

ছবি তোলা শেষ করে বর্ডারের উদ্দেশ্যে এগোচ্ছি। প্রথমে ভুল পথে চলে গেলাম বা পাঠিয়ে দেয়া হলো, হাহাহাহা… কিন্তু ওখানে পৌছে মন ভরে গেল। বর্ডার না হলেও খুবই সুন্দর একটা জায়গা। বেশ কিছুক্ষণ ছবি তুললাম, তারপর সেখান থেকে তেতুলিয়া বর্ডারে এলাম।

বাংলাবান্ধাঃ

img_20141226_125443রাস্তাটা এতই চমৎকার ছিল যে বর্ডারে এসে খুবই আশাহত হলাম। কিছুই পেলাম না হিলি বর্ডারের মত। কেবল ট্রাকের লাইন আর সামান্য কিছু মানুষ ওখানের একটা মনুমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে ছবির পোজ দিচ্ছে। তবে কিছু নারী দেখে অন্তত ভাল লাগল। হাহাহাহা…প্যাঁচী না থাকলে যা হয় আর কি। হাহাহাহা… খুব বেশিক্ষণ সেখানে সময় নষ্ট করলাম না, ঘুরে দৌড় দিলাম কারণ রাস্তা টানছে। ১২১ কিঃমিঃ কিন্তু মনে হচ্ছে ৮০/৮৫ তে আছি। স্মুত এজ বাটার যাকে বলে আর কি, এত ভাল রোড সারা দেশে থাকলে ৬০০সিসি পারমিট হয়তো দিয়ে দিত…হাহাহাহা…স্বপ্ন হোক সত্যি ইটের পরে আধলা…হাহাহাহা… ছুটছি আর মনে মনে ভাবছিলাম, তেল কই পাই? পেট্রোল পাম্পে দাড়ালাম অকটেন নাই, তাই পেট্রোল নিয়েই আবার দৌড়ালাম। বিকাল ৪টার দিকে দিনাজপুরে ব্যাক করলাম। ফ্রেশ হলাম, খেলাম…আর ঠিক করে ফেললাম যদি আগামী বছর আবার আসি, খুব তো মন্দ হবে না তবে এখন বাসায় ফেরার পালা। প্যাঁচীকে দেখি না অনেকদিন। হাহাহাহা…

বিদায়..হোম সুইট হোম…আবার আসিব ফিরে, আপাতত জীবনবন্দী হয়ে যাই আবার।

(0v0)

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s