Mind of a Rider

এটা টেকনিকাল কথাবার্তা ভরা কোন লেখা না কিংবা ভ্রমণ কাহিনীও না আবার বানোয়াতুল কিতাবে পাওয়া টিপস এন্ড ট্রিকসও না…এটা দর্শন নিয়ে লেখা বলা যেতে পারে।হাহাহাহা…এবার শুরু করা যাক।

আপনি যদি যে কোন রাইডারকে জিজ্ঞেশ করেন, “ আপনার মাথার ভেতর কি চলে যখন আপনি রাইড করেন”? সবাই একটা শব্দই বলবে, “কিছুই না”।

আপনি হয়ত বলবেন, কিছুই যদি না চলে তাহলে এটা নিয়ে লেখার কি আছে? আমি যতই যুক্তি দেই না কেন তা আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে নাও হতে পারে, কারণ আমি খুব সাধারণ একজন ব্যাক্তি তাই বিশ্বের সবাই চেনে যেসব নাম তার ভেতর থেকে একটা নাম বেছে নিয়ে তার উক্তি দিয়ে বলি, মুহাম্মদ আলী, “আমাদের মাইন্ড আমাদের শরিরকে নিয়ন্ত্রণ করে, উল্টাটা না”। এখন আমার কথা হচ্ছে, মাথায় যদি কিছুই না থাকে তাহলে কেমনে কি হয়ে যায়, কেন একজন রাইডার তার মোটরসাইকেল রাইড করা মানেই, ঐ সময়টার জন্য সে সবকিছু থেকে ফ্রি। যত সমস্যা, পারিবারিক ঝামেলা, জীবিকার ধান্দা, অস্বস্তি, ইহকাল-পরকাল সবকিছু থেকে যেন সে মুক্ত হয়ে যায়; ঐ কিছু সময়ের জন্য তার মাঝে যে মানসিক শান্তি বিরাজ করে,তার জন্য কতমানুষ কত কিছু করতেছে তার ইয়ত্তা নাই এবার সে একমাইল রাইড করুক বা এক হাজার মাইল।

তাই আসুন দেখি রাইডারের মাথায় আসলে কি হয়?হাহাহা…

আপনি যখন রাইড করেন তা আপনার মানসিক এবং শারিরীক পুরো কন্সানট্রেশান টেনে নেয়। আপনি যত দ্রুত রাইড করেন তত বেশি মনোযোগের প্রয়োজন হয় বা ব্যবহার হয়। ধরুন আপনি হচ্ছেন পৃথিবীর সেরা মানসিক গঠনের একজন,তাহলে কি আপনি চাইলেই দ্রুততম রাইডার হতে পারবেন? এখন আবার দ্রুততম রাইডারকে জিনিয়াস বা তেমন কিছু ভেবে ভুল করবেন না কারণ এই বিষয়টি (জিনিয়াস) অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তাই এটা ভাবুন, এমন কি হয় যার কারণে একজন দ্রুততম রাইডার যেমন সব কিছু থেকে মুক্তি পেয়ে যায় তেমন সবচেয়ে ধীরগতির রাইডারো সব সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়ে যায়। এই পর্যায়ে এসে হয়ত ভাবছেন একটা উত্তর পেয়ে যাবেন বা আমি দিতে পারবো, কিন্তু সত্যি কথা আমি নিজেও তো জানিনা। শুধু জানি এমনটা হয়। যখনি একজন রাইডার তার প্রিয় মোটরসাইকেলটি নিয়ে বের হন সকল সমস্যা তার পেছনে পড়ে থাকে, এবার তিনি এক মাইল বা এক হাজার মাইল রাইড করেন না কেন।

এটা নিয়ে অন্য অনেক বিষয়ের মত, যেমন-এলিয়েন, ইউএফও ইত্যাদি, আমরা একটা থিওরী দিতেই পারি কিন্তু এটা কি খুব বেশি জরুরী কারণ যখনই আবার রাইড দিবেন তখনই তো সব ভুলে যাবেন।হাহাহা…

একটি ফল যেমন গাছে একটি বোটার সাহায্যে ঝুলে থাকে, মানবশিশুও তো তেমনি থাকে। এখনি হো হো করে হেসে উঠবেন না, ধৈর্য্য ধরেন আরেকটু। জন্মগ্রহণের সময় হয়ত ব্রডব্যান্ড ক্যাবলটি খুলে ওয়াইফাই জোনে প্রবেশ করে আর তাই যখনি আমরা রাইড করি, তখনি কিছু সময়ের জন্য সব কানেকশান ছুটে যায় আর আমরাও মুক্তি পেয়ে যাই…হাহাহাহা…এবার হাসতে পারেন হো হো করে…হাহাহাহা…

কিন্তু একটা কথা নিশ্চিত করে বলা যায়, একজন রাইডার দিন দিন অবশ্যই একজন ভাল মানুষে পরিণত হয় কারণ দুনিয়ার সবাই কেবল সমস্যাই খুজে পায়, পায় না মুক্তির উপায়; কিন্তু একজন রাইডারের সবসময়ই একটি মুক্তির উপায় জানা আছে; হোক না ক্ষণীকের জন্য তারপরো তো মুক্তি আর এই মুক্তির জন্য কত মানুষ কত কিছুই না করে, করতেছে এবং করবে। এই পৃথিবী বা জীবন যত সমস্যায় আমাদের জর্জরিত করে রাখুক না কেন, এই পৃথিবীতেই আছে তার থেকে মুক্তির উপায় যদি আপনার কাছে সঠিক টুলসটি থাকে।

অন্যভাবে বললে, “চোখের পানি লুকাইতে চোখ যতই মুছেন না কেন, ধরা পড়বেনই কিন্তু যদি পানির মাঝেই ডুবে থাকেন তাহলে আর তাই বলে পুকুরে ডুব দিয়েন না আবার, বৃষ্টির মাঝে দাড়ালেই হবে”। হাহাহা…তাই আপনি যদি কোন সমস্যা নিয়ে থাকেন, তাহলে অস্থির হবেন না, সমস্যাটির মুখোমুখি হন কারণ আপনার হাতে মুক্তির উপায় তো আছেই, কেবল একটা রাইড দিয়ে আসেন।

আমার এই প্রশ্নের উত্তর মনে হয় না আমি কোণদিন খুজে পাব। কারণ এর উত্তর খুজতে আমি বারবার রাইড করি আর যতবার রাইড শুরু করি ততবারই প্রশ্নটাই ভুলে যাই।হাহাহা…তাই খুব ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও লিখতে পারলাম না কিছুই, মাফ করবেন।

তবে দয়া করে সাইফটি গিয়ার পরতে ভুলে যাবেন না…
আপনার রাইড নিরাপদ ও সুন্দর হোক…PEACE…

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s