ফোর স্ট্রোক ইঞ্জিন-১

আগের পোস্টে গেছে ইঞ্জিনের বিভিন্ন পার্টসের কম্বিনেশানের গল্প। এবার আসি “কম্প্রেশান রেশিও” নিয়া। আমরা সবাই-ই দেখছি এই ব্যাপারটা, বাইকের স্পেসিফিকেশানে প্রায়শই লেখা দেখা যায়। কম্প্রেশান রেশিও ৯.৩:১ বা ৯.৮:১, এর মানে কি? এটা দিয়ে কি-ই বা বুঝব। আসলে তেমন কিছু বুঝার নাই যদি বুঝতে না চান কিন্তু বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার বোঝা যায় এই নাম্বার দ্বারা। তবে সেসব দিকে যাবার আগে, কম্প্রেশান ব্যাপারটা, যা আমরা ইঞ্জিনের ২নং স্ট্রোকে দেখেছি, তা নিয়ে একটু না বললেই না।

এয়ার-ফুয়েল মিক্সারকে কম্প্রেস করতে হয় কেন?

কারণ এতে টেম্পারেচার বাড়ে ফলে কম্বাশচান ভাল হয়। আর সেজন্যই কম্প্রেশান রেশিওটা যত বেশি হবে তত ভাল। আবার খুব বেশি হলে ভাল না এতে প্রিইগনিশান কম্বাশচান বা “নকিং” হতে পারে অর্থাৎ প্লাগ স্পার্ক করার আগেই এক্সপ্লোশান হতে পারে। এতে পিস্টন TDC তে পৌছানোর আগেই কম্বাশচান তৈরী হয় ফলে ইঞ্জিনের সমূহ ক্ষতি হয়। আর সেজন্যই প্রত্যেক ম্যানুফেকচারার ফুয়েল স্ট্যান্ডার্ড মেনশান করে দেন, যাতে নকিং না হয় বা সহজ বাংলায় বললে, স্পার্ক তৈরী হবার আগেই অতিরিক্ত কম্প্রেশানের কারণে সময়ের আগেই কম্বাশচান তৈরী না হয়। একটা ছবি দিলাম সংগৃহিত।

আশা করি এরপর থেকে যখনই কম্প্রেশান রেশিও দেখবেন বুঝতে পারবেন ঘটনাটা আসলে কি এবং কেনই বা নির্দেশিত ফুয়েল ব্যবহার করা বাইকের ইঞ্জিনের জন্য ভাল। আর ফুয়েলের ব্যাপারে অনেকেই মাইক্রণ নিয়ে কথা বলেন এবং অবশ্যই সেটা জরুরী কিন্তু আমার মতে আসল ফেকরা হইল ইগনিশান টাইমিং-এর ব্যাপারটা।

এখন কম্প্রেশান রেশিও বাড়াবেন কিভাবে বা কতটুকুই বা বাড়াবেন তা নির্ভর করবে আপনার এলাকায় যে তেল বা গ্যাস পাওয়া যায় তার কোয়ালিটির উপর। এছাড়াও মনে রাখবেন,আমাদের পরিবেশের বায়ুর চাপ খুব সম্ভবত ১৪.১ তাই এর চেয়ে বেশি কম্প্রেশান আসলে সম্ভব কিনা আমার জানা নাই কারণ আমার জানামতে, চাপ বেশি থেকে কমের দিকে বায়ু ধাবিত হয় তাই বাহিরের থেকে বেশি প্রেশারের জন্য আগে এয়ার কালেক্ট করে কম্প্রেস করতে হবে ও পরে ইঞ্জিনে ডেলিভার করতে হবে আর সেটা করতে গেলে হয়ত বাইকের আকার ও ওজন উভয়ই বৃদ্ধি পাবে।হাহাহা…তবে আমি আমার স্কুলের বিজ্ঞানের জ্ঞান দিয়ে এটা বলতেছি, একেবারে গাজাখুরি হয়ে যাবার সম্ভাবণাই বেশি। তবে সো ফার, হাইয়েস্ট কম্প্রেশান রেশিও মনে হয় ১৩:১ তাও টয়োটার ইঞ্জিন।

কিন্তু কম্প্রেশান রেশিও বাড়াবার একটা সহজ উপায় হচ্ছে সিলিন্ডারের সাইজ বড় করা বা পিস্টনের ওপরের যে স্পেস তা বাড়ানো, তবে সিলিন্ডারের কোনদিকের আকার বাড়াবেন তা নির্ভর করবে, আপনি কি উদ্দেশ্যে কাজটা করছেন তার উপরে। আপনি চাইলে ভার্টিকাল স্পেস বাড়াতে পারেন কিংবা হরাইজনটাল স্পেস…আর তার উপর নির্ভর করে আপনার মোটরসাইকেলের চরিত্র পাল্টাবে।

আগেই বলেছি, সব কথা সবজায়গায় বলা ঠিক না, তারপরো অনেক কথা বললাম। না বুঝে কেবল সবাই করে বলে কিছু করতে যাবেন না। মোটরসাইকেল গাড়ি না,(motorcycle isn’t a car) তাই রাইডারের চরিত্র, মানসিকতা, সচেতনতার সাথে পুরো মোটরসাইক্লিং অনেকাংশে জড়িত, তাই যে যাই করবেন বুঝে শুনে করবেন আর মনে রাখবেন ভুল আমরা প্রতিদিন করি না তাই আপনি যত টেকনিক বা যত জ্ঞান সব কেবল জীবনে ২/৩ বার কাজে লাগবে,তার থেকে বেশি না। হাহাহা…এবার কি করবেন, না করবেন, কোনটাকে মূল্যায়ণ করবেন কোনটাকে বাদ দিবেন তা পুরোটাই আপনার ব্যক্তিগত পছন্দের উপর নির্ভর করে। অনেকেই কেবল সাময়িক শো-অফ করতে গিয়ে কুড়িতে মারা যায় আবার কেউ শো-অফ করার জন্য প্রস্তুত হতে হতে হাড়ের জোড়া ক্ষয়ে যায়।হাহাহা…আপনাকেই আপনার রাস্তা বেছে নিতে হবে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s